তিরিশ বছর পর ফেসবুক মিলিয়ে দিলো হারিয়ে যাওয়া দুবোনকে

১৯৮৫ সালের ঘটনা। ৬৯ বছর ঘুমিয়ে থাকার পর জেগে উঠল কলম্বিয়ার নেভাদো দেল রুইজ স্টার্ট আগ্নেয়গিরি। গরম লাভার তোরে সমস্ত জমাটবাঁধা তুষার গলে জলের স্রোত হয়ে পাহাড়ের গাঁ বেয়ে পড়তে লাগল। জলের স্রোতে বিশাল ভুমিধ্বসের সৃষ্টি হল।
পাহাড়ের নিচেই ছিল আর্মারো নামে ছবির মত সুন্দর একটি শহর। প্রায় উনত্রিশ হাজার মানুষের বসতি ছিল সেখানে। সেই শহরেই বাবা মায়ের সাথে ৯ বছরের জ্যাকোলিন আর ৩ বছরের লরেনার বসবাস ছিল। সেই ভয়াবহ ভূমিধ্বসে পুরো শহর মাটি আর কাঁদার নিচে চাপা পড়ে প্রায় ২২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
উদ্ধারকারীরা দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করলেও তাদের দত্তক নিল সম্পুর্ণ আলাদা আলাদা যায়গার দুই মহৎপ্রাণ মানুষ। সেই থেকে দুই বোন আলাদা হয়ে পড়ল। তার পর কেটে গেল দীর্ঘ তিরিশটি বছর। তবুও দুজনেরই আশা ছিল যে দুই বোন পরস্পরকে একদিন খুঁজে পাবেই।
গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি লরেনা একটি ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুকে। বড় বোন জ্যাকলিনের চোখে পড়ামাত্রই বুঝতে পারে যে সে তার ছোট বোন।বার বার সে ভিডিওটি দেখে। মনে মনে ভয়ও পায় যে লরেনা যদি স্বীকার না করে এই সম্পর্ক।
এরপর সেই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যকারী সংস্থা আর্মারো ফাউন্ডেশন এটি সুরাহা করার দায়িত্ব নেয়। এরা ২১শে ফেব্রুয়ারি দুজনের ডি এন এ পরীক্ষা করে প্রমান করেন যে এই দুজনই ত্রিশ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া দু বোন।
দুবোন দুবোনকে খুঁজে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। তাদের জীবনের সবথেকে সুখের দিন বলে স্বীকার করে এই দিনটিকে। বর্তমানে জ্যাকলিন ২টি এবং লরেনা এক সন্তানের জননী।
অভিনন্দন ফেসবুককে,যার দৌলতে ত্রিশ বছর পর দুই সহোদরার অপ্রত্যাশিত মিলন সম্ভব হল।
(১৯৮৫ সালের সেই আগ্নেয়গিরির উদগিরণ,ধ্বংসযজ্ঞ,বর্তমানের সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরের ছবিসহ দুবোনের ছবি দেয়া হল)



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন